শ্রী চিন্ময়

 

বাঙলা ও বাঙালির  মানবিক মায়া- মমতা-শ্রদ্ধা-ভালবাসা ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক মূর্ত প্রতীক  শ্রী চিন্ময়। ১৯৩১ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে তাঁর জন্ম।কিন্তু  সমগ্র বিশ্বই ছিল তাঁর ঠাঁই। নিউ ইয়র্ক প্রবাসি শ্রী চিন্ময় তাঁর সাহিত্য, সঙ্গীত, চিত্রাঙ্কন, ক্রীড়া সহ বহুমুখী প্রতিভা দ্বারা মানব সমাজে শান্তি, ঐক্য ও সৃজনশীলতার  বাণী প্রচার করেছেন।

শ্রী চিন্ময় মানুষের অসীম সৃজনী শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। সৃজনশীলতার তিনি নিজেই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি তের হাজার বাঙলা ও আট হাজার ইংরেজী গান রচনা করেছেন। প্রায় এক হাজার ছয় শত পুস্তক রচনা করেছেন। শত শত ছবি এঁকেছেন। ঝর্ণাকলা নামে খ্যাত তাঁর চিত্রশিল্পে রয়েছে বহু বর্ণিল ও নানা চিন্তার সমাহার। আমেরিকায় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত সিদ্ধার্থ শংকর রায় তাঁর বহুমুখি প্রতিভার  প্রশংসা করে বলেছিলেন শ্রী চিন্ময় হচ্ছেন একবিংশ শতাব্দির বিশ্ব মানব

ক্রীড়া ক্ষেত্রে তিনি এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। ছিয়াত্তর বছর বয়সে থাইল্যান্ডে তিনি পর পর সাতটি হাতি উত্তোলন করে সবাইকে বিস্মিত করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ম্যারাথন টিম বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দৌড় ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। ওয়ার্ল্ড হারমনি রান প্রতিবছর বিশ্বের শতাধিক দেশের মানুষকে মিলিত করে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের দীর্ঘতম তিন হাজার একশত মাইল দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগিরা প্রতিদিন আশি থেকে একশত মাইল দৌড়ায়-টানা এক্কান্ন দিন, ভোর ছয়টা থেকে রাত বারটা পর্যন্ত।

শ্রী চিন্ময় ১৯৭০ সাল থেকে ২০০৭ এ পরলোক গমনের আগে পর্যন্ত জাতিসংঘের সদর  দফতরে পীস মেডিটেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি কোন ধর্মের বাণী প্রচার করেননি। শ্রী চিন্ময়ের মতে স্রষ্টা একজনই এবং পৃথিবীতে ধর্ম একটাই- মানব ধর্ম । শ্রী চিন্ময়ের আদর্শ, স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে ভালবাসা। মা যেমন বাচ্চার কান্না শুনে আকুল হয়ে ছুটে আসে তেমনি শ্রী চিন্ময় যেখানেই আর্ত মানবতার ক্রন্দন শুনেছেন, সেখানেই ছুটে গেছেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ওয়ান্নেস-হার্ট-টিয়ার্স এন্ড স্মাইল সংগঠনটি বিশ্বের ১৫০টির ও বেশি দেশে যথাসাধ্য খাদ্য দ্রব্য, ঔষধ, ও শিক্ষা সামগ্রী পাঠিয়ে তাঁর বাঙ্গালি হৃদয়ের সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেছেন। যেমন কলকাতার মাদার তেরেসার মিশনারিতে বা মস্কোতে মিখাইল গর্বাচেভের  শিশুদের ব্লাড কেন্সার চিকিৎসা কেন্দ্রে, এঙ্গোলার ক্ষুধার্ত শিশুদের ও বাংলাদেশের বন্যাপীড়িত মানুষদের তিনি সাধ্যমত সাহায্য পাঠিয়েছেন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ তে মহান বিজয় দিবসে তাঁর সংগঠনের পাঠানো কোটি টাকা মূল্যের  হাসপাতালের যন্ত্রপাতি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌছাবে।

প্রত্যেক মানুষের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা, তাকে জাগ্রত করে সমস্ত মানবতার কল্যানে তা নিয়োজিত করাই ছিল তাঁর সাধনা। তাই তিনি বিশ্বের অগণিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর সেক্রেটারী আশ্রিত ফরম্যান হচ্ছেন বিশ্বের সবচাইতে বেশি গিনিস বুকের রেকর্ডের অধিকারী। নয়টি অলিম্পিক সোনা বিজয়ী কার্ল লুইস তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত। মোহাম্মদ আলী ক্লে বিশ্ব শিরোপা জয়ের পরদিন নিউ ইয়র্ক টাইমসে আলী ও শ্রী চিন্ময়ের  ছবি একত্রে প্রকাশিত হয়ে ছিল। তাঁর অনুসারী নর নারীদের অনেকেই ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী, এদের মধ্যে ৫৯ বছর বয়সে চ্যানেল বিজয়ী নারীও রয়েছেন। পরশ পাথরের ছোঁয়ায় সব কিছুই নাকি সোনা হয়ে যায়; তাঁর অনুপ্রেরণায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে অনেকেই বিখ্যাত হয়েছেন, অনেকেই হতাশা কাটিয়ে মানসিক সুখ ও প্রশান্তি লাভ করেছেন।

বাংলার বাইরে থাকলেও তিনি ছিলেন মনে প্রাণে বাঙ্গালি। বিশ্বব্যাপী তাঁর হাজার হাজার অনুসারী নর নারীকে তিনি বাঙ্গলা নাম দিয়েছেন এবং সেই নামেই তাদের ডাকতেন। তাদের অনেকেই তাঁর লেখা হাজার হাজার বাংলা গান জানেন।

বিশ্বের দেশে দেশে,জাতিতে জাতিতে শান্তি, মৈত্রী ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি বিশ্বময় প্রায় ৮০০ একক কনসার্টের আয়োজন করেছেন। সবই দর্শকদের জন্যে বিনামূল্যে। কারন তিনি মনে করতেন,শারিরিক সুস্থতার মত মানসিক শান্তি ও সুস্থতার জন্য মেডিটেশন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি চর্চার অধিকার রয়েছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের। তাঁর ছাত্ররা তাই বিশ্বব্যাপী বিনামূল্যে মেডিটেশন শিক্ষা দিয়ে থাকে।

ব্রিটিশরা ভারত বর্ষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করে যাওয়ার ষাট বছর পর এখনো পর্যন্ত এ উপমহাদেশ থেকে জাতিতে-জাতিতে, ধর্মে-ধর্মে,  নারী-পুরুষে, শান্তি-মৈত্রী- সমঝোতাও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রত্যেকের স্বাধিকার কে স্বীকার করেই এই শান্তি, মৈত্রী প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আসুন বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় আমরা পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হই।

 

Bangladesh contact form

 

Related